New Business Idea: বিরাট সুযোগ ব্যবসার! নতুন ব্যবসা শুরু করুন, টাকা দেবে সরকার

New Business Idea: করোনা অতিমারির কবলে পড়ে বিগত দুবছরে গোটা পৃথিবী বিপর্যস্ত। এর জেরে গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক হাল বেশ শোচনীয় হয়ে পড়েছে। এই অতিমারীর কারনে গত দুবছরে গোটা পৃথিবী জুড়ে কয়েক কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছেন। গত দুবছর যাবত সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি চাকরির বাজারের হালও বেশ শোচনীয়।কিন্তু জীবন জিবিকা বলে কথা,তা থেমে থাকলে চলবে না। তাই জিবিকার খোঁজে সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরির বাজারে না ঘুরে অনেক কর্মহীন মানুষই বিকল্প কর্ম সন্ধান করছেন।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

তবে চলতি বছরের শুরু থেকে অভিমারির প্রকোপ বেশ কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে গোটা দেশ। চলতি বছরের শুরু থেকে দেশের বেকার যুবক-যুবতীরা অবশ্য চাকরির বাজারের পাশাপাশি বিকল্প কাজ হিসাবে ব্যবসাকেই বেছে নিতে চাইছেন। কিন্তু অনেকের কাছে ব্যবসার (New Business Idea) জন্য পকেটে পর্যাপ্ত টাকা নেই। ব্যবসা করতে গেলে টাকা অর্থাৎ মুলধনের প্রয়োজন। এখন প্রশ্ন হল ব্যবসার সেই মূলধন অর্থাৎ টাকা জোগাবে কে?

তবে ব্যবসা করতে চাইলে ব্যবসা শুরু করা যেতেই পারে। কারন এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে বিশেষ করে দেশের লাগামহীন বেকারত্ব দূরীকরণে ইতিমধ্যেই কয়েক বছর আগেই চালু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা প্রকল্পে ঋণের ব্যবস্থা। তাই অযথা চিন্তা না করে কেউ যদি ভাবছেন ছোটোখাটো ব্যবসা শুরু করবেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার ঋণ (New Business Idea) নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা প্রকল্পটি আদতে দেশের বেকারদের কর্মঠ করে তুলতেই চালু করা হয়েছে। ব্যবসার মূলধন জোগান দিতেই বেশ কয়েক বছর আগে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। তবে এই প্রকল্পের সম্পর্কে দেশের বেশির ভাগ মানুষই অবগত নয়। এই প্রকল্পে আবেদন করলে যে কোনও উদ্যোগী ব্যবসার জন্য ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ হিসাবে পেতে পারেন। আপনি যদি ভেবে থাকেন নতুন ব্যবসা (New Business Idea) শুরু করবেন তাহলে আজ থেকেই নতুন উদ্যোগের জন্য পরিকল্পনা শুরু করুন। এই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন-

প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা কি?

শুধুমাত্র নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রেই নয়, যদি কোনও উদ্যোগী বা ব্যবসাদার তার ব্যবসাকে বাড়াতে বা ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি করতে চান তারাও এই মুদ্রা যোজনার ঋণ সহজেই পেতে পারেন। তবে নতুন ব্যবসা হোক কিংবা পুরনো ব্যবসার সম্প্রসারণ দুই ক্ষেত্রে উদ্যোগীকে তার ব্যবসার সঠিক পরিকল্পনা বা লক্ষ্য ঠিক করে সেই পরিকল্পনার কাগজ পত্র সঠিক জায়গায় সঠিক ভাবে আবেদন করতে হবে। তবেই ওই ব্যক্তি ঋণ পাবেন মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই। কিন্তু ঋণ বা লোণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে কোনও বাড়তি প্রসেসিং চার্জ দিতে হবে না। শুধুমাত্র ওই ব্যক্তি কি ধরণের ব্যবসা (New Business Idea) করতে চাইছেন সেই বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়া বিশেষ প্রয়োজন। তার সঙ্গে আবেদন পত্র যেন সঠিক ভাবে পূরণ করা হয় সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।

কারা এই ঋণ পেতে পারেন?

১)আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।

২)আবেদনাকারীর বয়স ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে হতে হবে।

৩)এক্ষেত্রে সরকারি অথবা সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন বেসরকারি ব্যাঙ্ক মারফৎ সহজ কিস্তিতে লোণ পাওয়া যাবে।

কোন ধরণের ব্যবসার ক্ষেত্রে লোণ দেওয়া হয়?

১) আবেদনকারী যদি ছোটোখাটো উৎপাদন ভিত্তিক কারখানা করতে চাইছেন তাহলে তিনিও লোণ পাওয়ার যোগ্য।

২)এছাড়াও মুদি দ্রব্য, মাছের ব্যবসা, সব্জির ব্যবসা, ঔষধের দোকান সেলুন, জিম, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্ৰ, জামা কাপড়ের ব্যবসা, টেলারিং, কৃষিকাজ, পশুপালন যেমন- মাছের চাষ, পোলট্রি হ্যাচারি, ডেয়ারি ফার্ম, মৌমাছি পালন ইত্যাদি।

তবে এ বিষয়ে ঋণ অর্থাৎ লোণের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই একটি আর্থিক সংস্থা থেকে তার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা পত্রটিকে মনোনয়ন করে নিতে হবে। অর্থাৎ ব্যবসার যাবতীয় তথ্য দিয়ে সেটিকে আর্থিক সংস্থার থেকে মনোনীত করতে হবে।এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রোজেক্টটি একটি আর্থিক সংস্থার তত্বাবধানে তৈরি করতে হবে।

এই প্রকল্পে আবেদন করবেন কিভাবে?

১)এক্ষেত্রে প্রথমেই আবেদনকারীকে ভারত সরকারের মুদ্রা যোজনা প্রকল্পের ওয়েব সাইটে (https://portal.udyamimitra. in) ঢুকে আবেদন পত্র ডাউন লোড করে নিতে হবে।

২)তারপর ওই আবেদন পত্রে আবেদনকারীকে তার এবং তার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা পত্রের যাবতীয় তথ্য আপলোড করতে হবে।

৩)তারপর ওই আবেদন পত্রটি সাবমিট করে তার একটি প্রিন্ট কপি অবশ্যই আবেদনাকারীকে তুলে নিতে হবে নিজের কাছে রাখার জন্য।

আবেদনের সময় আবেদনকারীকে কি কি ডকুমেন্টস দিতে হবে?

১) আঁধার কার্ড ও ভোটার কার্ড এবং প্যান কার্ড।

২)আবেদনকারীর স্থায়ী বাসস্থানের ঠিকানা।

৩)ব্যবসায়িক পরিকল্পনা পত্র অর্থাৎ আবেদনকারী কি ধরণের ব্যবসা করতে চাইছেন তার প্রমান পত্র।

৪)আবেদনকারীর ইনকাম ট্যাক্সের তিন বছরের খতিয়ান।

৫)আবেদনকারীর যদি আগে থেকেই ব্যবসা থেকে থাকে তবে সেই ব্যবসার তিন বছরের ব্যালান্সশীট ইত্যাদি।

তবে আবেদনকারীকে একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে সেটি হল মুদ্রা যোজনার এই লোণ ব্যবস্থাকে ক্ষুদ্র, মাঝারি, এবং বৃহৎ আকারে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন- ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে।আর মাঝারি ক্ষেত্রে ৫০ হাজার থেকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে এবং বৃহৎ অঙ্কের ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ঋণ দানকারী ব্যাঙ্ক এবং আবেদনকারীর ব্যবসার ধরণ ও পরিমানের ওপর নির্ভর করবে।আপনিও যদি ব্যবসা করার পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে এই প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার (New Business Idea) লোণ বা ঋণ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।

Leave a comment

JoinJoin